opennews.com.bd
  • | |
  • cnbangladesh.com
    cn.com
    cn.com
    cn.com
    cn.com
cnbangla.com
মতামত

অযোগ্য শাসকদের যাঁতাকলে বাংলাদেশ : বিজয়ের ৪৪ বছরের সাতকাহন


Date : 12-31-15
Time : 1451548225

cnbangladesh.com

এই বছরের ১৬ ডিসেম্বর আমরা ৪৫তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছি। আর ৫ বছর পর আমরা ৫০তম অর্থাৎ স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালন করব। ৪৪ বছরের অনেক লম্বা সময় পার করে আজ আমরা যেখানে এসে দাঁড়িয়েছি সেখান থেকে স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশ তথা পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার সাথে আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার যদি একটা আবেগহীন ও বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা ও তুলনা করতে পারি তবেই তা হবে স্বাধীনতার ৪৪ বছরের সত্যিকার মূল্যায়ন। আত্মোপলব্ধি, আত্মসমালেচনা এবং অতীত ও বর্তমানের যুক্তিসঙ্গত বিচার-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়েই একটা জাতি তথা দেশ ভুলত্রুটি সংশোধন করে ভবিষ্যৎ অগ্রগতির জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে। অহমিকা, আবেগতাড়িত মনোভাব ও সান্ত্বনামূলক আত্মতৃপ্তি বা সন্তুষ্টি নিয়ে আর যাই হোক বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা, প্রকৃত সত্যকে উন্মোচন করা ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে কখনও পৌঁছানো যায় না।

স্বাধীনতার আগে নেতারা আমাদেরকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল এই বাংলাকে ( পূর্ব বাংলা ) “সোনার বাংলায়” পরিণত করবে অর্থাৎ আমরা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করব, আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে মানুষের মতো প্রকাশের তথা বাক স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করব, মানুষে মানুষে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটা শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলব, সকল ধর্ম ও জাতি গোষ্ঠীর সমঅধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করব, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করব, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব, বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতিকে মনে প্রাণে ধারণ করে শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব, বাংলার শাশ্বত প্রকৃতি ও রূপকে সংরক্ষণ করে এই বাংলাকে সত্যিই প্রকৃত সোনার বাংলায় সাজিয়ে তুলব। বাঙালি জাতির উল্লেখিত স্বপ্ন, আদর্শ ও লক্ষ্য পূরণে একমাত্র বাধাই ছিল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান অর্থাৎ পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী। তাই তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম শেষে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি- যার বয়স এখন ৪৪ বছর। অতএব, আজকের বাংলাদেশকে দেখতে হবে ৪৪ বছরে আমাদের শাসকরা স্বাধীনতাপূর্ব স্বপ্ন, আদর্শ ও লক্ষ্য পূরণে অর্থাৎ বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার ক্ষেত্রে কতটুকু সফল হয়েছেন। আর যদি প্রকৃত অর্থে (রাজনৈতিক বুলি হিসেবে নয় ) সোনার বাংলায় পরিণত করা সফল হয়ে না থাকেন তবে দেখতে হবে, খুঁজতে হবে, বুঝতে ও মেনে নিতে হবে তাদের ব্যর্থতা কোথায় এবং কেন?

স্বাধীনতার পূর্বে আমাদেরকে বুঝানো হয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তানের মূল অর্থনৈতিক শক্তিই ছিল আমাদের বাংলার প্রধান সম্পদ পাট, চা ও চামড়া। আমাদেরকে বঞ্চিত করে পাকিস্তানি শাসকরা মূলতো এই তিন খাতের আয় দিয়েই পশ্চিম পাকিস্তানকে গড়ে তুলছিল। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকদের কাছ থেকে পূর্ব বাংলাকে মুক্ত করে দীর্ঘ ৪৪ বছরে আমরা আমাদের পাট সম্পদকে (যাকে বলা হত সোনালি আঁশ ) ধ্বংস করেছি, বাংলার পাটচাষিরা এখন মৃতপ্রায়, পাটকে এখন তাদের গলার ফাঁস বলা হয়, কোন কোন বছর পাটচাষিরা পাটের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মনের দুঃখে কষ্টে উৎপাদিত পাটকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। অথচ স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৬৯ -৭০ অর্থবছরেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ( আজকের বাংলাদেশের ) পাটখাতে আয় ছিল ৩০০ কোটি টাকা ( যা আজকের মূল্যমানে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি )।

সারা পৃথিবীতে এখন প্লাস্টিক ও পলিথিনের পণ্য ব্যবহারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক কাঁচামালের তৈরি পণ্যের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে - যেখানে আজ আমাদের নিজস্ব কৃষিজ সম্পদ পাটের চাহিদার সম্ভাবনা ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। বর্তমানে আমাদের দেশে পাট উৎপাদিত হয় বছরে ৭০-৭৫ লাখ বেল, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাট রপ্তানি হয়েছে ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩২ বেল, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২৪ হাজার ২১৫ বেল, অর্থাৎ গত ৪/৫ বছরে পাটের রপ্তানি কমেছে ৫৭%, ফলে অনেক জুট প্রেস বন্ধ হয়ে গেছে, বেকার হয়েছে হাজার হাজার শ্রমিক/কর্মচারি, কী কারণে এখন আবার সরকার পাট রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাট খাতে দুর্নীতি, জাতীয়করণের মতো ভুল সিদ্ধান্ত ও অযোগ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পাটকল আদমজীসহ দেশের বলতে গেলে সব কয়টা পাটকলকেই লোকসান দিতে দিতে শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এ মাসের ২১ তারিখের দৈনিক ইত্তেফাকের খবরে প্রকাশ নানা সঙ্কটে পড়ে খুলনা-যশোর শিল্প এলাকার তিনটা জুটমিল বন্ধ হয়ে গেছে, আরো কয়েকটা বন্ধের দ্বারপ্রান্তে, ফলে কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারি বেকার হয়ে পড়েছে। আমরা এখন পাটের জন্ম ইতিহাস আবিষ্কার করে বিশ্বে রেকর্ড সৃষ্টি করার প্রচার ও প্রচারণা নিয়ে পুলকিত হচ্ছি, কিন্তু প্রকৃত অর্থে পাট সম্পদের উন্নয়ন ও পাটচাষির কল্যাণের জন্য কার্যকর ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কোন লক্ষণ নাই। 

এইতো গেল পাটের অবস্থা। স্বাধীনতার আগে যেখানে আমাদের এখান থেকে বিদেশে চা রপ্তানি হতো, এখন দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য চা আমদানি করা হচ্ছে, চামড়া শিল্পও কোনরকমে টিকে আছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ১২৮ কোটি ২৮ লাখ মার্কিন ডলার, কিন্তু প্রথম ৫ মাসে তা বিগত অর্থবছরের চেয়ে ১.৮১ শতাংশ কম। বর্তমান ট্যানানি শিল্পকে ৪৪ বছরেও কোন সরকার ঢাকার হাজারীবাগ থেকে নির্ধারিত স্থান কালিয়াকৈরে স্থানান্তর করে পরিকল্পিত ও আধুনিকভাবে পুনঃস্থাপনের কাজটা সমাধা করতে পারেনি। যে পাট, চা ও চামড়ার আয় দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে গড়ে তোলা হচ্ছিল, স্বাধীনতার পর এই তিন খাত আমাদের হাতে আসার পর এই তিন খাতের আয় দিয়ে বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করা যেত। আসলে বিগত ৪৪ বছরের শাসনকাল পর্যালোচনা করলে আমাদের শাসকদের তথা যারা দেশ পরিচালনা করছে তাদের এই ক্ষমতা বা যোগ্যতা এমনকি ইচ্ছা ছিল বলেও আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না। স্বাধীনতাপূর্ব ঢাকার আদমজী শিল্পনগরী, ডেমরা শিল্পনগরী, কাঞ্চন শিল্পনগরী, নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা/গোদনাইল শিল্প এলাকা এবং খুলনার খালিশপুর শিল্প এলাকা অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্যে ছিল মুখর, এখন এসব এলাকা মৃত ও পরিত্যক্ত। আগে আমাদের চিনি আমদানি করতে হতো না, এখন চিনিকল প্রায় সবই বন্ধ, খুলনা নিউজপ্রিন্টের কাগজই সংবাদপত্রের জন্য পর্যাপ্ত ছিল, এখন তাও প্রায় অচল। এই কি বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে চলা?
 
স্বাধীনতার প্রধানতম স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটা শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলব। ৪৪ বছরের পরেও কি তা সম্ভব হয়েছে? স্বাধীনতার পূর্বে বলা হতো পুরো পাকিস্তানের ২২ পরিবার দেশ ও জনগণকে শোষণ করছে, স্বাধীনতার পর এখন আমাদের দেশে ২২ লাখেরও বেশি কোটিপতি পরিবার হয়েছে, শোষণ আগের চেয়ে আরো ভয়াবহভাবে বেড়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন খাতে হাজারো পণ্যের ওপর ( এমনকি শিক্ষার ওপরও ) বিভিন্ন মাত্রার কর, ভ্যাট আরোপের মাধ্যমে এবং জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাস এর মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করে সরকারও প্রকৃতপক্ষে জনগণকে আরো বেশি শোষণ করছে / গলা টিপে ধরেছে। দেশের নিজস্ব কৃষিজ বা খনিজ সম্পদের ওপর অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে ব্যর্থ হওয়াতেই পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির বাস্তবতায় বেঁচে থাকা বা টিকে থাকার জন্য দেশের জনগণ (বেসরকারি উদ্যোক্তারা) ধীরে ধীরে পোশাক শিল্প ও জনশক্তি রপ্তানি খাতকে আজ দেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানি আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তুলেছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ের সরকার বা শাসকরা তাদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করেছে সত্য। কিন্তু পাট, চা আর চামড়া খাত ধ্বংস হওয়ার পর গদি নিয়ে কাড়াকাড়ি / মারামারি এবং দুর্নীতি আর রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করা ছাড়া দেশের অর্থনীতির জন্য বিকল্প খাত বা উৎস খুঁজে বের করা বা সৃষ্টি করার মতো কোন যোগ্যতা বা দক্ষতা দেখাতে পারে নাই। বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণে পরিচালিত প্রকল্প খাতেও দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশে বিদেশি বিনিয়েগ মারাত্মকভাবে কমে গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য মতে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ১৬০ কোটি ডলার, সেই তুলনায় আমাদের প্রতিবেশি একটা অগণতান্ত্রিক দেশ মিয়ানমারেও ২০১৪ সালে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৮০০ কোটি ডলার, ভিয়েতনামে এই সময়ে ৭২০ কোটি ডলার। দৈনিক কালেরকণ্ঠের ৮ ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল “বিনিয়োগে হাহাকার”, এফবিসিসিআই এর সভাপতি বলেন, বিনিয়োগের বড় বাধা হলো গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব, জমির উচ্চ মূল্য, ব্যাংক ঋণের চড়া সুদ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা। আর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন বিদেশি বিনিয়োগ বিগত ৫ বছরে কমেছে সর্বনিম্ন । এর ফলে আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গেছে। বিভিন্ন দেশে এখন তৈরি পোশাকের চাহিদা বেড়েছে বলে আমরা এ খাতে দেশের ৬০ লাখ মহিলা শ্রমিককে কাজে লাগাতে পেরেছি বটে, যদি তা না হত তবে এই বিশাল বেকার মেয়েদের কী অবস্থা হতো? বিভিন্ন দেশে গৃহদাসী হিসেবে রপ্তানি করা ছাড়া আর কি কোনো উপায় থাকতো? 

অপরদিকে বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশ তাদের দেশের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে বলে আমরা লাখ লাখ শ্রমিক বিদেশে রপ্তানি করতে পেরেছি, এটাকে জনশক্তি রপ্তানি বলা হলেও প্রকৃত অর্থে এটা বিদেশের কাছে শ্রম বিক্রি করা ছাড়া আর কিছুই নয়, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নাই বা খুবই সীমিত বলে আমরা অসম্মানজনক এই খাতে আমাদের দেশের যুবকদের বিদেশে পাঠাচ্ছি, দেশে চাকরি/কাজকর্মের সুযোগ নাই বলে আবার অবৈধভাবেও হাজার হাজার বেকার যুবক বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে মাঝপথে মারা যাচ্ছে বা বিভিন্ন দেশে বন্দি হচ্ছে, এমনকি এখন বিভিন্ন দেশে গৃহকর্মীর নামে মেয়েদেরকেও গৃহদাসী হিসেবে পাঠাতে শুরু করেছি? সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখা স্বাধীন দেশের জন্য এটা কি সম্মানজনক বা মর্যাদাশীল আয়ের উৎস? বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার এটাই কি যথার্থ প্রমাণ? সস্তা ও সহজলভ্য শ্রম থাকায় এবং লাখ লাখ বেকার থাকার কারণে আমরা উল্লেখিত দুই খাতে এখনও টিকে আছি, কিন্তু এখানেও আমাদের প্রতিযোগী দেশ রয়েছে। বিকল্প ও ক্ষণস্থায়ী চাহিদার উপর নির্ভর হয়ে অর্থনীতিকে বেশিদিন সচল করে রাখা যায় না। দেশের আর এক প্রকৃতিক সম্পদ ছিল মাটির নিচের গ্যাস, এটাও এখন নিঃশেষ হতে চলেছে, বাসা বাড়ি ও খাবার হোটেলে ২৪ ঘণ্টা গ্যাসের অতি ও অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না, বরঞ্চ গ্যাস নিয়ন্ত্রক সংস্থা তিতাস ও বাখরাবাদে চলছে শুধু কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি। আমাদের “দেশপ্রেমিক” সরকার তথা শাসকদের দেশ চালাতে অদূরদর্শিতার আর একটা নমুনা হলো মাটির নিচের মূল্যবান এই সম্পদকে আরো দ্রুত শেষ করার জন্য কার্বন নিঃসরণ তথা পরিবেশ দূষণ কমানো নামে প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনকে গ্যাসে রূপান্তরিত করার আত্মঘাতি নির্দেশ/সুযোগ করে দেওয়া, গত ১০ বছর যাবৎ লাখ লাখ যানবাহন জ্বালানি গ্যাস ব্যবহার করে মাটির নিচের গ্যাসের মজুদ শেষ করে ফেলেছে, এখন সাধারণ জনগণ বাসা-বাড়িতে রান্নার কাজের জন্য এবং শিল্প-কারখানা চালাতে আর গ্যাস পাচ্ছে না। অপরদিকে নাসার স্যাটেলাইটের গত ১০ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের এক বৈঠকে সম্প্রতি জানানো হয় যে এই সময়ে বাংলাদেশে দূষণের হার বেড়েছে শতকরা ৮০ ভাগ। ঢাকাসহ সারা দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ এবং নদ-নদীর পানিকে যেভাবে আরো অসংখ্য কারণে দিন-রাত দূষিত করা হচ্ছে সেখানে গাড়ির ইঞ্জিনে গ্যাস ব্যবহার করে দূষণ কমানোর চিন্তা-ভাবনা যেমন হাস্যকর বা তামাশা তেমনি আত্মঘাতিও বটে।

অপর সম্পদ মাটির নিচের কয়লা, এই সম্পদেরও উপযুক্ত ব্যবহারের জন্য আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা পরিকল্পনা নিতে পারছে না, এমনকি দীর্ঘ ৪৪ বছরে একটা কয়লা নীতিও প্রণয়ন করা যায়নি, বরং বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করে দেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ সুন্দরবনকে ধ্বংস করার জন্য সেখানে ( রামপালে ) ভারতের সহযোগিতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এমনিতেই বিভিন্ন মানুষ সৃষ্ট কারণে সুন্দরবনের উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, সুন্দরবন এখন জলদস্যু আর বনদস্যুদের আস্তানা ও অভয়াস্থলে পরিণত হয়েছে। অথচ আমাদের বর্তমান বনমন্ত্রী বলেছেন, সুন্দরবনের বাঘরা নাকি ভারতে বেড়াতে যাওয়ায় সেখানে বাঘের সংখ্যা এখন কমে গেছে। এই হচ্ছে আমাদের শাসকদের “দেশপ্রেমিক ও জ্ঞানগর্ভ” বক্তব্য এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মেধা ও যোগ্যতা।





সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতিঃ এনামুল হক শাহিন
প্রধান সম্পাদকঃ সিমা ঘোষ
সম্পাদকঃ নরেশ চন্দ্র ঘোষ

ঠিকানাঃ
২৩/৩ (৪ তালা), তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৯৭৭৭৬৮৮১১
বার্তা কক্ষঃ ফাক্সঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৬৭৬২০১০৩০
অফিসঃ ০১৭৯৮৭৫৩৭৪৪,
Email: editoropennews@gmail.com



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ নুরে খোদা মঞ্জু
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ গাউসুল আজম বিপু
বার্তা সম্পাদকঃ জসীম মেহেদী
আইটি সম্পাদকঃ সাইয়িদুজ্জামান